দেশে ভ্রমণ ভ্রমণ কাহিনী

মহেশখালীর পান ও আদিনাথের খোঁজে

সুমন গোস্বামী, মহেশখালী ঘুরে এসে

যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম/ যদি নতুন একখান মুখ পাইতাম/ মহেশখালি পান খিলি তারে বানাই খাবাইতাম এই আঞ্চলিক গানটি শুনেনি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। কক্সবাজার ঘুরতে গিয়ে মহেশখালীর পান না খেলে কী চলে।

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী একটি সুন্দর দ্বীপ। জীবনের হাজারো ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি ভ্রমণের সুযোগ যেন সজ্ঞীবনী শক্তি এনে দেয়। তাই ছুটি মিললেই একাকী বা দলবেঁধে হোক সময়টাকে কাজে লাগাতে চাইলে ঘুরে আসুন মহেশখালী, পরিবার নিয়ে।

কক্সবাজার থেকে এটি মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে। জনশ্রুতি আছে, ১৫৫৯ সালের প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দ্বীপের সৃষ্টি। দ্বীপটি আয়তনে ৩৬২ বর্গকিলোমিটার ।

মহেশখালী উপেজেলায় সোনাদিয়া মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা নামে তিনটি ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে। পান, মাছ, শুঁটকী, চিংড়ি, লবণ এবং মুক্তার উৎপাদনে সমগ্র বাংলাদেশে এই উপজেলার সুনাম রয়েছে। ৪-৫ ঘন্টায় কক্সবাজার থেকে মহশেখালী দ্বীপ থেকে ঘুরে আসা যায়।

কক্সজবাজার শহর যেকোন জায়গা থেকে মহেশখালী যাবার জেটিতে ৬ নং জেটি ঘাট যেতে হবে। তারপর লোকাল ট্রলার বা স্পীড বোটে ৭০-৮০ টাকা ভাড়ায় মহেশখালিতে যেতে হবে। চাইলে স্পিডবোট রিজার্ভ নিতে পারবেন।

জেটি ঘাট থেকে স্পিডবোটে ত্রিশ মিনিটের মতো লাগে মহেশেখালী যেতে। স্পিডবোটে চড়ে বাঁকখালী চ্যানেল পার হওয়ার সময়টা দারুণ। সকালবেলা দূরে রোদ আর নদীর অপরূপ সৌর্ন্দয দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। সুবিশাল পাহাড় আর ম্যানগ্রোভ ঘেরা এই দ্বীপ।

স্পিডবোট থেকে নেমে মহেশখালী জেটিঘাট থেকে ব্যাটারচালিত টমটম বা ইজিবাইকে করে যেতে হবে মহেশখালীর প্রধান আকর্ষণ আদিনাথ মন্দির। এখানে ছোট বড় বেশ কয়েকটি বৌদ্ধবিহার রয়েছে। বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির আর বৌদ্ধবিহার ঘুরে দেখে আপনার মন প্রশান্তিতে ভর যাবে।

আদিনাথ মন্দিরটি ৮৫.৩ মিটার উঁচু মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। পাহাড়ের ঢাল কেটে বানানো ৬৯টি সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয় মন্দিরে। হিন্দুর্ধমের বিভিন্ন গ্রন্থে এই মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা জানা যায়। মন্দিরটির গোড়াপত্তনের ইতিহাস অনেক চমকপ্রদ। এছাড়া প্রতি বছরে ফাল্গুন মাসে এখানে আদিনাথ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি পথেই দেখতে পাবেন মহেশখালীর বিখ্যাত পানের বরজ আর লবণের মাঠ।

মহেশখালি সব থেকে চমৎকার দিক হলো এটি এক স্বয়ংসর্ম্পূণ ভূখণ্ড। একদিনের যাত্রায় আরো অনেককিছু দেখার বাকি রয়ে যাবে মহেশখালীর।

আদিনাথ মন্দিরে ওঠার সিঁড়ির ধারেই চোখে পড়বে ছোটখাটো একটি মার্কেট। নানা ধরণের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছে স্থানীয় রাখাইনরা। বিভিন্ন রকমের চাদর পাঞ্জাবি চাদর মাফলারসহ আর নানা রকম পোশাকে সাজানো সব দোকান।

পর্যটকদের ভিড়ও প্রচুর দোকানগুলোতে। এখানকার প্রায় সবকিছুই স্থানীয়দের তৈরি। স্থানীয় রাখাইনরা তাদের নিজস্ব ধারার পোশাক তৈরি করে থাকেন। ভোজনরসিকরা কিনতে পারেন লবণ বিহীন শুটকি।

অল্প দূরত্ব হওয়ায় মহেশখালী থেকে সহজেই ফিরে আসা যায়। এছাড়া মহেশখালীতে থাকার তেমন ব্যবস্থা নেই তাই রাত্রি যাপনের জন্য ফিরে আসুন কক্সবাজারে। কক্সবাজার থেকে খাবার আর পানি নিয়ে গেলে ভালো হবে। সঙ্গে শিশু থাকলে স্পিডবোটে চড়ার সময় একটু সতর্ক থাকতে হবে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *