প্রত্নতত্ব বিদেশে ভ্রমণ

রুদ্রসাগর জলে নীরমহলের ছায়া

আগরতলা থেকে ফিরে, সুমন গোস্বামী

ঘাটে দাঁড়িয়ে দেখলে মনে হবে জলের বুকেই বুঝি নীরমহল। আসলে তা নয়। রুদ্রসাগর পেরিয়ে যেতে হবে রাজার অবকাশ কেন্দ্রে। এ সাগরও শুধু নামেই সাগর। আসলে এক বিশাল হ্রদ। আর নীরমহল ভারতের সর্ববৃহৎ জল প্রসাদ।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলা। সেখানেই ত্রিপুরা রাজের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ কেন্দ্র নীরমহল।

সকাল বেলা আগরতলা শহর থেকে যাত্রা করি নীরমহলের পথে। বিশ্রামগঞ্জ পেরিয়ে রাস্তার দু’পাশ ধরে পাহাড়ি প্রকৃতি আর গাছপালার শোভা। পাহাড়ি পথ এঁকেবেঁকে চলে গেছে।

যাওয়ার পথেই পড়বে সিপাহী জলা ফরেস্ট পার্ক। আর ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়। হাতে সময় থাকলে ঘুরে দেখতে পারেন।

দেড়-দুই ঘণ্টা পর গিয়ে পৌঁছলাম সেই নীরমহলের প্রান্তে। দুপুর রোদে ডাবের পানিতে তৃষ্ণা মেটালাম। তারপর নৌকায় চড়ার জন্য টিকেট কাটতে হলো। সুনীল আকাশের ছায়া পড়েছে হ্রদের জলে। অতিথি পাখিরা পর্যটকদের স্বাগত জানায় ডুব সাতারে। জেলেরা ব্যস্ত নিত্যদিনের কাজে।

দূর থেকে ছোট আকারে দেখা গিয়েছিল নীরমহলকে। যত হ্রদের পথ ফুরিয়ে আসে তত স্পষ্ট হয়ে ওঠে নীরমহলের অবয়ব।

প্রায় পাঁচ দশমিক তিন বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে নীরমহল। ত্রিপুরা রাজ্যের শেষ রাজা বীরবিত্রুম মানিক্য এই নীরমহল প্রাসাদটি তৈরি করেছিলেন। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৩০ সালে। উদ্বোধন হয় ১৯৩৮ সালের ১২ মে।

ভারতের সবচেয়ে বড় এবং পূর্ব ভারতের একমাত্র প্রাসাদ এটি। ভারতে শুধুমাত্র দু্টি জল প্রাসাদ আছে, অন্য আরেকটি রাজস্থান রাজ্যের জালমহল।

মহারাজা বীর বিত্রুম মানিক্য বাহাদুর ধারণা ছিলো এবং ১৯২১ সালে তিনি তার জন্য প্রাসাদ নির্মাণের জন্য ব্রিটিশ কোম্পানী মার্টিন ও বার্নসকে স্বীকৃতি প্রদান করেন । কাজটি সম্পন্ন করার জন্য কোম্পানীটি নয় বছর সময় নিয়েছে।

নীরমহল প্রাসাদ হলের মহারাজা এর মহান স্বাদ এবং হিন্দু ও মুসলিমদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিশ্রণের তার চিত্তার্কষক ধারণা। নীরমহল প্রাসাদটি দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রাসাদটির পশ্চিম অংশ অন্দর মহল নামে পরিচিত। এটা রাজ পরিবারের জন্য তৈরি করা হয়। পূর্বের দিকের অংশটি খোলা আড়ম্বরপূর্ণ থিয়েটার। নীরমহল প্রাসাদে মোট ২৪টি কক্ষ রয়েছে।

সকাল ৯টা থেকে ৫টা পযর্ন্ত খোলা থাকে নীরমহল। ঘুরে দেখতে হলে ১০টাকা ফি দিতে হবে। শীতের সময় নীরমহল দেখতে গেলে লেকে পানিতে দেখতে পাবেন হাজার হাজার অতিথি পাখি।

আগরতলা শহর থেকে নীরমহল যেতে পারেন লোকাল বাস বা  ভাড়ার মাইক্রোবাসে ও প্রাইভেট কারে চড়ে। নীরমহল ঘুরে এসে রাজঘাটের পাশে পযর্টকদের জন্য সাগরমহল আছে। সেখানে খাবারের ব্যবস্থা আছে। সাথে থাকতেও পারবেন।

বিকেলে গোধূলী আলোয় নীরমহল আরো মায়াবি হয়ে ওঠে। সোনালী আলোর প্রচ্ছদপটে হ্রদের জলে পড়ে প্রাসাদের ছায়া। এই রাজকীয় স্থাপত্য নির্দশন দেখে মন ভরে উঠবে আনন্দে। #

 

কনটেন্ট এডিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *